শিল্পী ললিতমোহন সেন স্মরণে

শান্তিপুরের একদল শিল্পপ্রেমী শিল্পী ললিতমোহন সেনকে নিয়ে অনবদ্য একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই নিয়ে উদ্ভাসের প্রতিবেদন

বাংলার বরণীয় শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম একজন ললিতমোহন সেন জন্মসূত্রে নদীয়ার শান্তিপুরের মানুষ। তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে, মাত্র ছাপান্ন বছরের জীবনেই তিনি লাভ করেছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও সম্মান।Lalit Mohan self portrait অল্পবয়সে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ থেকে বাঁচাবার জন্য ললিতমোহনকে লখনউ-এ তাঁর দাদার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই তিনি সরকারি চারু-কারু বিদ্যালয়ে শিল্পশিক্ষালাভ করেন। শুধু তাই নয়, শিক্ষা শেষে ললিতমোহন সেখানেই শিল্প-শিক্ষক পদে যোগ দেন। শিক্ষকতাকালেই তিনি উচ্চতর শিল্পশিক্ষার বৃত্তি পেয়ে ইংল্যাণ্ডে যান এবং লণ্ডনে রয়্যাল কলেজ অফ আর্টসে ভর্তি হন। সেখানে ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর ছবি রয়্যাল আকাডেমির প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছিল। ইংল্যাণ্ডের তৎকালীন রাজা পঞ্চম জর্জের স্ত্রী রানি মেরি ললিতমোহনের আঁকা ছবি সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর আঁকা শ্রেষ্ঠতম কাজগুলির মধ্যে অন্যতম একটি কাজ রয়েছে লণ্ডনের ইন্ডিয়া হাউসে। ছবি আঁকার পাশাপাশি ফোটোগ্রাফিচর্চাতেও তিনি স্বকীয়তার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

এইরকম বড়োমাপের অথচ প্রায় বিস্মৃত একজন শিল্পীর স্মরণে শান্তিপুরের একদল শিল্পপ্রেমী বিগত কয়েকবছর ধরে অসামান্য একটি কাজে ব্রতী হয়েছেন। প্রথমে এই কাজে এগিয়ে এসেছিলেন ‘কলাকুশলী’ গোষ্ঠী, পরবর্তীতে কার্যভার গ্রহণ করেন শান্তিপুরের বিশিষ্ট শিল্পপ্রেমীরা। তাঁরা শিল্পী ললিতমোহন সেনের স্মরণে প্রতিবছর স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে চলেছেন। চিত্রশিল্পের নানা শাখায় কৃতি ব্যক্তিত্বদের তাঁরা আমন্ত্রণ জানান।Alankaran সেইসব গুণীদের নিজস্ব ভাবনার দ্যুতি প্রকাশ পায় তাঁদের বক্তৃতামালায়। এখনও পর্যন্ত শিল্পী স্মরণে বক্তব্য রেখেছেন সুধীর চক্রবর্তী, শোভন সোম, সত্যজিৎ চৌধুরী, গৌতম ভদ্র, প্রণবেশ মাইতি, হিরণ মিত্র, শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। শুধুমাত্র বক্তৃতার আসরেই থেমে থাকেন না উদ্যোক্তারা। বক্তাদের মৌখিক বক্তব্যের লিখিত রূপ প্রকাশিত হয় পুস্তক আকারেও। আজ অবধি প্রকাশিত বইগুলির পরিসরে ধরা পড়েছে বাংলার লোকশিল্পী ও শিল্পসমাজ, ছাপচিত্রকলা, রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবি, বাংলা সাহিত্যের অলঙ্করণের মতো বিবিধ বিষয়। মুদ্রণ সৌকর্যের দিক থেকেও বইগুলি যথেষ্ট প্রশংসনীয়।

মফস্সল বাংলার শিল্পচর্চার সীমিত পরিসরে ললিতমোহন স্মরণে এই কাজটি আসলে সমগ্রজাতির চিত্রবিমুখতার বিপরীতে যেন এক ঝলক বসন্ত বাতাস। যে বাতাসে না আছে শীতের কাঠিণ্য, না আছে গ্রীষ্মের প্রখরতা। তাঁদের এই শৈল্পিক উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হোক, আরো বিস্তৃত জনপদের মানুষ পাশে এসে ভিড় করুন — এইটুকুই কেবল চাওয়া।

  • শিল্পী ললিতমোহন সেনের আত্মপ্রতিকৃতি এবং ললিতমোহন সেন স্মারক বক্তৃতার মুদ্রিত বই-এর প্রচ্ছদ।
Advertisements
This entry was posted in Cultural journey and tagged , , , . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s