সম্পাদকীয়র মতো …

কখনই কোনোও সম্পাদকীয় থাকে না আমাদের। কিন্তু কিছু কথা বলার থাকেই আমাদের তরফে। এই ওয়েব ম্যাগাজিনের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে সেই কথাগুলি বলার জন্যই সম্পাদকীয়র মতো …। আর এই কথাগুলির দায়ভার একমাত্র মৃণাল নন্দী-র।

খেলাচ্ছলে তৈরি চিত্রচর্চার প্রথম বাংলা ওয়েবম্যাগাজিন নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রতি সপ্তাহে পাঠকদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলেছে। আজ দেখতে দেখতে তিন বছর হয়ে গেল তার বয়স। যদিও প্রাথমিক পরিকল্পনা আরোও এক বছর আগে থেকে শুরু হয়, কিন্তু তখন সেটা নিয়মিত নয় একদমই। নিয়মিত হিসাবে দুই পেরিয়ে তিনে পড়ল এই ওয়েব ম্যাগাজিন।

সংখ্যা দিয়ে কিছুই বোঝানো যায় না। কিন্তু এই দু-বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে চিত্র-ভাস্কর্য নিয়ে একটা করে নতুন লেখা পাঠকের দরবারে হাজির করা যে কি দুঃসাধ্য ব্যাপার তা যে কোনো পত্রিকার সম্পাদক মানেই বুঝবেন। লেখকের কাছে লেখার দরবার করা, লেখা পাওয়ার পর তার উপযুক্ত ছবি নির্বাচন, প্রুফ সংশোধন আর শেষে ওয়েব-আপলোড। যে কোনো পত্রিকা সম্পাদকই জানেন বিষয় ভিত্তিক লেখা পাওয়া একটু কঠিন হয়। আর সেই কঠিনতা আরো বেড়ে যায় যদি বিষয়টা শিল্প সংক্রান্ত বিশেষ করে চিত্রকলা ও ভাস্কর্য হয়।

তবে আমরা উদ্ভাসের যে সব বন্ধু ও লেখকদের কাছে পেয়েছি, যাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়েছি তাদের জন্যই নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে পাঠককে উপহার দিতে পেরেছি নতুন ভাবনার বিষয়, নতুন একটা করে লেখা। এ জন্যই উদ্ভাসের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানানো উচিত, কিন্তু বন্ধুদের কি কোনোদিন ধন্যবাদ জানানো যায়?

আসলে ২০০৪ সালে পথ চলতে শুরু করার পর থেকেই আমরা চেয়েছিলাম চিত্রচর্চায় সবাই সামিল হোন। সকলে ছবি আঁকতে না পারলেও কোনো ক্ষতি নেই, কিন্তু সকলে যেন ছবি ভালবাসেন। ছবি দেখতে ও দেখাতে যদি ভাললাগে সবার তবেই উদ্ভাসের স্বপ্ন সফল হবে। একই চিন্তা-ভাবনায় আমাদের ওয়েব ম্যাগাজিনের ক্ষেত্রেও আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সে জন্যই, শুধু শিল্পীরা নয়, যাঁরা সেই শিল্পীদের ছবির দর্শক তাঁদেরকেও আমরা সামিল করতে চেয়েছি উদ্ভাসের ওয়েব ম্যাগাজিনে। যাঁরা ছবি দেখেন, ভালবাসেন, তাঁদেরও নিশ্চয় ছবি নিয়ে কিছু বলার আছে। কিন্তু সেই কথা শোনানোর জায়গা কোথায়? তাই আমরা একটি বিভাগ এনেছি ‘আমার ছবিকথা’। এখানে একই সঙ্গে শিল্পী ও দর্শক তাঁদের ছবি নিয়ে ভাল-লাগা, মন্দ-লাগা, নানা রকম অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন। আমাদের। এর বাইরেও অনেক লেখা আমরা পেয়েছি তাঁদের কাছে থেকে যাঁরা কখনই কোনো পত্রিকায় লেখার জন্য কলম তুলে নেননি। প্রথম কলম তাঁরা ধরেছেন উদ্ভাসের এই ওয়েব ম্যাগাজিনের জন্যই। এমন আনকোরা নতুন শিল্প-লেখক তুলে আনতে পারাটা আমাদের কাছে যেমন গর্বের; তেমনই আমরা এটাও বলতে চাই যে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।

অবশ্য একমাত্র লক্ষ্য নয় এটা। আমরা আসলে নানাজনের কাছে একটা ছবি পৌঁছে দিয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছে সেটা কি বার্তা নিয়ে যায়, সেটা শুনতে চাই। এই ম্যাগাজিন হয়ে উঠুক শিল্পী-দর্শক, লেখক-পাঠক সবার আদান-প্রদানের মঞ্চ। আমরা চাই শিল্প সবার মনের মাঝে পৌঁছে যাক।

এই পৌঁছে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক জমে উঠতে পারে। ‘শিল্প তো মানুষের মনের মাঝেই তৈরি হয়, তবে তার আবার পৌঁছে যাওয়ার কি দরকার আছে’? আসলে শিল্প মানুষের মনের মাঝে তৈরি হলেও তার ফর্ম ও মিডিয়াম কখনও কখনও মানুষের থেকে দূরে — একান্তে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আর মানুষ তাকে দেখে সম্ভ্রম মিশ্রিত ভয়ে দূর থেকেই নমস্কার জানায়। ‘শিল্প শিল্পের মতো থাক, আমি আমার মতো’। এই জায়গাটাতেই আমার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে চাই।

আমরা চাই কেউ যেন না বলেন, ‘আমি তো ছবি বুঝি না।’ আর সে কারণেই সবাইকে সামিল করেই চলতে চাই পাশাপাশি, হাত ধরাধরি করে। সবাই সবার কথা শুনবো, সবাই সবার কথা বলব। সে শিল্পী হোন বা দর্শক।

সবাই স্বাগত আমাদের এগিয়ে চলার নতুন দিনগুলিতে।

 

This entry was posted in Cultural journey and tagged , , , , , . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.