এক যোদ্ধাশিল্পীর কথা

বিশ্বচিত্রকলায় এই মুহুর্তে শ্রেষ্ঠ পঞ্চাশজন শিল্পীর অন্যতম একজন হলেন শাহাবুদ্দিন। সদ্যই কলকাতায় গ্যাঞ্জেস আর্ট গ্যালারিতে তাঁর একক প্রদর্শনী হয়ে গেল। শাহাবুদ্দিনের ছবি মানেই মানুষ ও তার আশ্চর্য গতি। গতিশীল এই শিল্পী আর তাঁর কাজ নিয়ে কলম ধরলেন কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত

একুশ বছরের একটি তরুণ যে কিনা ছবি আঁকায় রীতিমতো দক্ষ। আঠেরো বছর বয়সেই ছবি আঁকার জন্য সে পেয়েছে সরকারি খেতাব ও স্বর্ণপদক। একদিন সেই ছেলে গেল যুদ্ধে, রং-তুলি ফেলে রেখে হাতে তুলে নিল বন্দুক। বুকের ভেতর শপথের আগুন, তার দেশকে শত্রুমুক্ত করতে হবে। যথোপযুক্ত ট্রেনিং নিয়ে সে হয়ে উঠল প্লাটুন-কমাণ্ডার। তারপর শুরু হল গুলির লড়াই, অবিরাম যুদ্ধ। মৃত্যু হত্যা রক্ত আর আর্তনাদের মধ্যে দিয়ে অবশেষে একদিন স্বাধীনতা এল দেশে। যোদ্ধা ছেলেটির মনে পড়ল ছবি আঁকার কথা। বন্দুককে সরিয়ে রেখে আবার সে বসল ছবি আঁকতে। কিন্তু গত কয়েক বছরে তার চিন্তা চেতনা গেছে বদলে। ছবি আঁকতে বসলেও যুদ্ধের স্মৃতি তাকে পিছু ছাড়েনা। সে আঁকে ছুটন্ত সৈনিক, আহত যোদ্ধা, পতাকা হাতে ধাববান দেশপ্রেমিক, শরণার্থীদের মিছিল অথবা মরনোন্মুখ দেশনেতার অন্তিম আর্তনাদ। ততদিনে তার ছবি আঁকার ঢংটিও হয়ে উঠেছে অসম্ভব গতিশীল। যেন ছুটন্ত অশ্বের ক্ষুরধ্বণি শুনতে পায় সে তার প্রতিটি ব্রাশস্ট্রোকে। ক্যানভাসে রং ছেটালে সে শোনে বিস্ফোরণের শব্দ। তার ছবিতে মানুষ সর্বদা ছুটে বেড়ায়। কারণ হয় সে আক্রান্ত, নয়তো আক্রমণে উদ্যত। স্থবিরতা কি জিনিস সে জানে না। তার আঁকা যে কোনও ছবির সামনে দাঁড়ালেই তোলপাড় করে ওঠে দর্শকের মন, বুকের ভেতর ঝড়ের জন্ম হয়।

যে শিল্পী-যোদ্ধার কথা বলছি তিনি হলেন আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠশিল্পী শাহাবুদ্দিন। জন্ম তাঁর ১৯৫০ সালে, ১৯৭১-এর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন এক গর্বিত সৈনিক। যুদ্ধশেষে স্বাধীন বাংলাদেশের আর্ট কলেজ থেকে পাশ করে তিনি যান ফ্রান্সে। সেখানে তিনি চিত্রকলায় উচ্চতর শিক্ষালাভ করেন। বর্তমানে শাহাবুদ্দিন একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও অত্যন্ত জনপ্রিয় শিল্পী। পঞ্চাশটিরও বেশি একক চিত্রপ্রদর্শনী করেছেন তিনি সারা বিশ্বজুড়ে। আমরা যারা তাঁর আঁকা ছবি দেখেছি তাঁরা জানি শিল্পীর হৃদয়ে একজন দৃপ্ত বিপ্লবীর পদচারণার শব্দ ঠিক কেমন। শাহাবুদ্দিনের ছবির জন্য কোনও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। শুধু তাঁর ক্যানভাসের সামনে দাঁড়ানোই যথেষ্ট। আসুন আমরা এবার মগ্ন হয়ে দেখি তাঁর অপূর্ব ক্যানভাসগুলি।

a061cover02tumblr_m3tb9h7hoX1roynxgo1_500details_large001

Advertisements
This entry was posted in Cultural journey and tagged , , , . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s