শিল্পগ্রাম হাতিমারা

অনন্তদেব মুখোপাধ্যায় এবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন বাংলার একটি গ্রামের সঙ্গে যে গ্রামটিকে শিল্পগ্রাম বললে কম বলা হয়।  লেখক নিজে সেই গ্রাম ঘুরে ঘুরে ছবি তুলেছেন, যার অল্প কিছু আমরা তুলেদিলাম পাঠকদের জন্য।

hati 1

পশ্চিমবঙ্গের একেবারে পশ্চিমে যে জেলা টি তার নাম পুরুলিয়া। বিচিত্রতায় ভরা এই জেলাতে আছে পাহাড়, নদী, জঙ্গল আর চারদিকে আছে বড় বড় জলাশয়। এমন বিচিত্র দেশে চিত্র থাকবে না তা-ও কি হয়? পুরুলিয়া জেলায় আছে অসংখ্য মন্দির আর মূর্তি। এর পাশাপাশি এখানকার বাসিন্দারা তাদের বাড়ী সাজানোর জন্যও ছবি আঁকে বাড়ীর দেওয়ালে। সে ছবি এক এক জায়গায় একেক রকম। সাধারনত সাদা, গেরুয়া, কালো রঙ ব্যবহার করা হয় বাড়ীগুলি রঙ করতে। নানা রকমের নক্সা আঁকা হয় প্রধানত দরজার-জানালার চারপাশে। নানা বইতে আদিবাসিদের বাড়ীর দেওয়ালে ছবি ও ছবি আঁকার বর্ণনা পাওয়া যায়। সময়ের সাথে সাথে পৃথিবী অনেক বদলালেও পাহাড় জঙ্গল ঘেরা এই জেলাটিতে কিন্ত এখনো অনেক কিছুই সেই আগের মতই অপরিবর্তিত আছে। পুরুলিয়া শহর থেকে ৬০-এ জাতীয় সড়ক ধরে বাঁকুড়ার দিকে যেতে একটি জায়গা যার নাম লালপুর। এই লালপুর থেকে ডান দিকে গেলে মানবাজার যাওয়া যায়। hati 2আর বাম দিকে আর একটি সরু রাস্তা ধরে গাড়িতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট গেলেই আপনি যে দৃশ্য দেখবেন তাতে আশ্চর্য হবেন । অধিবাসীদের প্রাচীন ছবি আঁকার যে ধারাটা, এখানে সেটা স্বকীয়তা বজায় রেখেও আধুনিক হয়ে উঠেছে। জায়গার নাম হাতিমারা। পুরুলিয়া শহর থেকে মাত্র ৪৩ কিলোমিটার দূরে এটির অবস্থান। মূলত সাঁওতাল গ্রাম এটি। পেশাগতভাবে কৃষি কাজের সাথে যুক্ত, কিন্তু পুরুলিয়ায় যেহেতু কৃষি বৃষ্টি নির্ভর, তাই বেশিরভাগ সময়-ই এরা মজুরী করেন । অন্য জায়গার যে ছবি দেওয়ালের গায়ে আমরা দেখে থাকি, এখানের ছবি কিন্তু তার থেকে আলাদা। মূলত দেওয়াল জুড়ে জ্যামিতিক নক্সা আর নানা রঙ-এর সমন্বয় এদের ছবিকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। মোটা কালো বর্ডারে কখনো কখনো ফুল, লতা-পাতা, ময়ূর, পাখী এ-সবও আঁকার বিষয় হয়ে উঠেছে। শুধু যে রঙ দিয়ে আঁকা তা নয়, সাথে সাথে মাটির দেওয়ালে মাটি দিয়েও রিলিফ-এ নক্সা করা হয়েছে আঁকা ছবির সাথে সঙ্গতি রেখে। এখানে রঙ হিসেবে মূলত আর্থ কালার, সাথে বাজার চলতি আঠা ব্যবহার করা হয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য যে, একটি বাড়ীর ছবির সঙ্গে আর একটি বাড়ীর ছবির কিন্তু কোন মিল নেই। বাড়িগুলির সামগ্রিক পরিকল্পনা, বিন্যাস এবং রঙ-এর ব্যবহার সর্বোপরি তার ডিজাইনের বৈচিত্র্য দর্শককে মুগ্ধ করবেই।

hati 3 hati 4 hati 5 hati 6 hati 7 hati 11

  • ছবিগুলি হাতিমারা গ্রামে  লেখকের নিজের তোলা।
Advertisements
This entry was posted in Cultural journey and tagged , , . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s