চলে গেলেন খালেদ চৌধুরী

Khaled Choudhury

খালেদ চৌধুরী (১৯১৯ – ২০১৪)

আজ বড় দুঃখের দিন। চলে গেলেন শিল্পী খালেদ চৌধুরী। ভোর ৪টে ৫০ নাগাদ তিনি চলে গেলেন। বয়স হয়েছিল ৯৫। অসুস্থতার কারণে তিনি ভুগছিলেন দীর্ঘদিন থেকেই। মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছানুসারে দেহ দান করা হয় নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

জন্ম ২০ ডিসেম্বর, ১৯১৯ অবিভক্ত আসামের করিমগঞ্জে। পিতা চন্দ্রনাথ দত্ত চৌধুরী ও মাতা হেম নলিনী। শৈশবেই মাতৃহারা হন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন চিরকালের জন্য। পিতৃদত্ত নাম চিররঞ্জন দত্ত চৌধুরী পরিবর্তন করে ১৯৪৩ সালে নিজের নামকরণ করেন খালেদ চৌধুরী, যদিও ধর্মান্তরিত হননি তিনি। ১৯৪৫ সালে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। ঐ বছরই ভারতীয় গণনাট্য সংঘের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন তিনি। ১৯৫৩-এ বহুরূপী নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগদান করেন এবং মঞ্চসজ্জায় নিজের উদ্ভাবনীশক্তির বিকাশ ঘটাতে শুরু করেন। এরপর নান্দীকার, রূপকার বা রঙ্গকর্মী বিভিন্ন নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করেন।

মঞ্চ রূপায়ণ শিল্পী হিসাবে কাজ শুরু করলেও খালেদ চৌধুরী খ্যাতি লাভ করেন একাধারে চিত্রশিল্পী হিসাবে, তার চেয়েও বেশী প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ শিল্পী হিসাবে। প্রথম প্রচ্ছদ রচনা ১৯৪৬ সালে ডাইসন কার্টারের লেখা ‘সোভিয়েত বিজ্ঞান’। আর শেষ প্রচ্ছদ রচনা ১৯৯৯ সালে অশোককুমার মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘চেনাপাড়া অচেনা মানুষ’। এই সময়কালের মধ্যে তিনি কয়েক হাজার প্রচ্ছদ এঁকেছেন, করেছেন অলঙ্করণ।

যে হাজার হাজার বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন, শয়ে শয়ে পোষ্টার এঁকেছিলেন, তার বেশিরভাগটাই আজ খুঁজে পাওয়া যায় না — কোথাও সংরক্ষিত হওয়াতো দূরের কথা। কিন্তু আশার কথা, প্রায় একক প্রয়াসে শিল্পীর নানা কাজের নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণের একক প্রয়াস করে যাচ্ছেন প্রদীপ দত্ত। দীর্ঘ সময় ধরে শিল্পীর সান্নিধ্যে থাকার অমূল্য অভিজ্ঞতার জীবন-কাহিনী গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার এক সংকল্পও নিয়েছেন তিনি।

১৯৮৬ সালে খালেদ চৌধুরী পান সঙ্গীত নাটক একাডেমি পুরস্কার। এরপর একে একে পান শিরোমণি পুরস্কার, কালিদাস সম্মান, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য একাডেমি পুরস্কার ইত্যাদি। নিজের কাজের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ অবশেষে ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করেন।

খালেদ চৌধুরীর ৯০তম জন্মতিথি পালনে উদ্ভাসের পক্ষ থেকে ২০১০ সালে প্রকাশ করা হয় একটি ক্যালেণ্ডার। নানা সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন কালজয়ী গ্রন্থে খালেদ চৌধুরীর আঁকা বারোটি স্কেচ প্রকাশ করা হয় সেই ক্যালেণ্ডারে। সেটি সম্পাদনা করেন খালেদ-জীবনীকার প্রদীপ দত্ত। ক্যালেণ্ডারটি আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন খালেদ চৌধুরী নিজেই।

আজ বড় দুঃখের দিন। তবু দুঃখ কাটিয়ে নিমগ্ন হই তাঁর কাজে। তিনি চলে গেলেন। কিন্তু তাঁর কাজগুলোতো আমাদের সঙ্গে রয়ে গেল। সেগুলোই আমাদের সম্বল, আমাদের সম্পদ।

— মৃণাল নন্দী

Aban_Thakur Dhusar Baster Arannya

Advertisements
This entry was posted in Cultural journey and tagged . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.