থিয়োডোরাস ভ্যান গখ

চিত্রশিল্পী নয়, তবুও চিত্রকলার জগতে শ্রদ্ধেয় এক নাম থিয়ো।  পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন মৃণাল নন্দী

থিয়ো (১৮৫৭ - ১৮৯১)

থিয়ো (১৮৫৭ – ১৮৯১)

১লা মে আমরা মে দিবস বলেই জানি। ঐ দিন কেন মে দিবস হিসাবে পালিত হয় তাও জানি। কিন্তু ঐ পবিত্র দিনে যে একজন মহান ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছিলেন চিত্রকলার জগতে তা কি আমরা কেউ মনে রেখেছি?
১লা মে ১৮৫৭ সালে জন্ম থিয়োডোরাস ভ্যান গখ এর। তিনি চিত্রকলার জগতে থিয়ো নামেই পরিচিত। থিয়ো ছিলেন ভিনসেন্ট ভ্যান গখ-এর ভাই। ভিনসেন্ট ভ্যান গখ-কে জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব একা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি নিজে। আজ হয়তো পৃথিবী ভিনসেন্ট ভ্যান গখ-কে চিনতেই পারতো না যদি তাঁর ভাই থিয়ো ভ্যান গখ না থাকতো। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত সব্বাই, এক কথায় তামাম দুনিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তাঁর দাদা ভিনসেন্টকে যুগিয়ে গেছেন ছবি আঁকার রসদ। সে শুধু টাকা পয়সা বা রং তুলি দিয়ে নয়, মানসিকভাবেও। আসলে থিয়ো ছিলেন সেই সময়ের চিত্রকলার আন্দোলন ‘ইমপ্রেশনিজম’ এর সমর্থক ও প্রচারক।
চিত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গুপিল কোম্পানীর কর্মী হওয়ার ফলে ‘ইমপ্রেশনিজম’ এর প্রচারক হওয়ার কিছু সুবিধা হয়তো থিয়ো পেয়েছিলেন, কিন্তু অসুবিধাই হয়তো বেশি ছিল। আসলে থিয়ো চিত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ছবি দেখার চোখটাই ছিল অন্যরকম। তিনি নবীন শিল্পীদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি দেখতে পেতেন সবার আগে। তাইতো নিজের দাদা ভিনসেন্টকে সেই দিনই চিনে নিয়েছিলেন যেদিন ধর্ম-প্রচারকের কাজ থেকে মুক্তি পেয়ে প্রথম পেন্সিলের আঁচড় কেটেছিলেন কাগজের গায়ে। ইমপ্রেশনিস্টদের যখন কেউ পাত্তাও দেয়না, সেই সময় তিনি চিনে নিয়েছিলেন পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্টদের। তাঁর সাহায্যপূর্ণ সমর্থন পেয়ে গিয়েছিলেন লোত্রেক, গগ্যাঁ, সিউরাত বা সেজান।
কিন্তু কোনো ভালো কিছুই পৃথিবীতে বেশিক্ষণ থাকে না। থিয়োর সময়ও পৃথিবীতে খুব কম বেঁধে দিয়েছিলেন তাঁর ঈশ্বর। ২৫শে জানুয়ারী ১৮৯১, মাত্র ৩৪ বছর বয়সে, দাদা ভিনসেন্টের মৃত্যুর মাত্র ছয়মাস পর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন তিনি। প্রথমে উঠরিখে সমাহিত হলেও পরে তাঁর স্ত্রী জোহানা ভ্যান গখ থিয়োর শবাধার নিয়ে গেলেন অভার্সে, যেখানে সমাহিত করা হয়েছিল তাঁর দাদা ভিনসেন্ট ভ্যান গখকে।
দুই ভাই পাশাপাশি চিরদিন, চিরকাল। ‘তাদের মৃত্যু হতে পারে কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো বিচ্ছেদ নেই।’

পাশাপাশি শায়িত দুই ভাই

পাশাপাশি শায়িত দুই ভাই

Advertisements
This entry was posted in Cultural journey and tagged . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s